নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের ৩০২টি জাদুঘর, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। গাজায় গণহত্যা ও পশ্চিম তীরের চলমান দখলদারিত্বের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মোট ৩০২টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, তারা ইসরায়েলের কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা করবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা সাংস্কৃতিক খাতের সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার প্রতি নির্লিপ্ত থাকতে পারি না।”
এই বর্জন ঘোষণার পেছনে দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি শিল্পী ও কর্মীদের আহ্বান কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্ট করেছে যে, এই সিদ্ধান্ত ইহুদিদের বা সব ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নয়; বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগী, তাদের বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধু সাংস্কৃতিক বর্জন যথেষ্ট নয়; তাই ক্রীড়া, শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্জনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো—নেদারল্যান্ডসের মাষ্ট্রিখটের বোনিফান্টেন মিউজিয়াম, বেলজিয়ামের গেন্ট শহরের ফাইন আর্টস মিউজিয়াম, হল্যান্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও ডাচ অপেরা।
প্রসঙ্গত, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২২৫ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৮ জন। অধিকাংশ হতাহত নারী ও শিশু। একইসঙ্গে খাদ্য সংকটে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৪৫৫ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ১৫১ শিশু রয়েছে।
মতামত