বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দিবসে ভলকার তুর্কের জরুরি বার্তা; আইনি সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ

যেখানেই মুসলিমবিদ্বেষ, সেখানেই নিন্দার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬

যেখানেই মুসলিমবিদ্বেষ, সেখানেই নিন্দার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ও সহিংসতা। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা যেখানেই দেখা যাক না কেন, আমাদের অবশ্যই তার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে। ১৫ মার্চ ‘ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিশ্বনেতাদের এই বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী ঢেউ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে যে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি হয়রানি, বৈষম্য এবং সহিংসতার ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে।

ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের ফলে ইন্টারনেটে মুসলিমবিরোধী কন্টেন্ট বা প্রচারণার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিমরা সরাসরি হামলার শিকার হচ্ছেন, ভাঙচুর করা হচ্ছে মসজিদ। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারী ও কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়াবহ ঘৃণ্য মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক দেশে মুসলিমদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হচ্ছে, যা কোথাও কোথাও আইনি রূপও পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু দেশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিকে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও গণ-গ্রেপ্তারের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করছে। এমনকি সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে 'প্রোফাইলিং' বা চিহ্নিত করছে, যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তুর্ক মনে করেন, ইসলামোফোবিয়ার শিকড় অনেক গভীরে এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় উত্তেজনার সাথে যুক্ত। ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো একসময় 'ভাগ করো এবং শাসন করো' নীতির মাধ্যমে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করেছিল। বর্তমানেও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক নেতা মুসলিমদের সামগ্রিক সমস্যার মূল কারণ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের 'অমানুষ' হিসেবে তুলে ধরছেন। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে উসকানিমূলক কাজের বিচার হচ্ছে না, তখন তারাও মুসলিমদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত হয়।

জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো মুসলিমসহ সকল মানুষকে সহিংসতা ও হয়রানি থেকে রক্ষা করা। তিনি এই সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি কিছু দেশের ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও জানান যে, মানবিক সমাজ গঠনে আরও অনেক কিছু করা বাকি।

বিষয় : মানবাধিকার জাতিসংঘ ইসলামোফোবিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


যেখানেই মুসলিমবিদ্বেষ, সেখানেই নিন্দার আহ্বান জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ও সহিংসতা। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা যেখানেই দেখা যাক না কেন, আমাদের অবশ্যই তার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে। ১৫ মার্চ ‘ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিশ্বনেতাদের এই বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী ঢেউ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পবিত্র রমজান মাসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে যে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি হয়রানি, বৈষম্য এবং সহিংসতার ঘটনা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে।

ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের ফলে ইন্টারনেটে মুসলিমবিরোধী কন্টেন্ট বা প্রচারণার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিমরা সরাসরি হামলার শিকার হচ্ছেন, ভাঙচুর করা হচ্ছে মসজিদ। বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারী ও কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়াবহ ঘৃণ্য মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক দেশে মুসলিমদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হচ্ছে, যা কোথাও কোথাও আইনি রূপও পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু দেশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিকে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও গণ-গ্রেপ্তারের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহার করছে। এমনকি সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে 'প্রোফাইলিং' বা চিহ্নিত করছে, যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তুর্ক মনে করেন, ইসলামোফোবিয়ার শিকড় অনেক গভীরে এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় উত্তেজনার সাথে যুক্ত। ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো একসময় 'ভাগ করো এবং শাসন করো' নীতির মাধ্যমে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করেছিল। বর্তমানেও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক নেতা মুসলিমদের সামগ্রিক সমস্যার মূল কারণ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের 'অমানুষ' হিসেবে তুলে ধরছেন। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে উসকানিমূলক কাজের বিচার হচ্ছে না, তখন তারাও মুসলিমদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত হয়।

জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো মুসলিমসহ সকল মানুষকে সহিংসতা ও হয়রানি থেকে রক্ষা করা। তিনি এই সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি কিছু দেশের ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও জানান যে, মানবিক সমাজ গঠনে আরও অনেক কিছু করা বাকি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ