বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মূর্তিবাদী সংস্কৃতির পরিবর্তে মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে বৈশাখ উদযাপনের আহ্বান

পহেলা বৈশাখে 'শিরকমুক্ত' ও 'শালীন' শোভাযাত্রার আহ্বান হেফাজতের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখে 'শিরকমুক্ত' ও 'শালীন' শোভাযাত্রার আহ্বান হেফাজতের

আসন্ন বাংলা নববর্ষ বরণে পহেলা বৈশাখে শিরকমুক্ত ও শালীনভাবে সাংস্কৃতিক র‍্যালি করার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির নামে বিজাতীয় বা মূর্তিবাদী প্রথা চাপিয়ে দেওয়া ইসলামি আকিদার পরিপন্থী। সোমবার (৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই আহ্বান জানান।

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ শব্দ বাদ দিয়ে শুধু ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই আয়োজন কতটুকু হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

হেফাজত নেতা স্পষ্ট করে বলেন, "একজন ঈমানদার মুসলমান বৈশাখকেন্দ্রিক হিন্দুয়ানি ‘মঙ্গল’ ধারণার মতো শিরক লালন করতে পারেন না। কারণ সব কল্যাণ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রাণীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি ও প্রদর্শন ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই মূর্তিবাদী সংস্কৃতির পরিবর্তে তাওহিদের চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখে মননশীল সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ মূলত আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করেই প্রবর্তিত হয়েছিল। মুসলিম শাসনামলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে স্বর্ণযুগ ছিল, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিমরা তাদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ভুলে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসারী হওয়া দুঃখজনক। তিনি বাংলার বিজয়ী বখতিয়ার খিলজির ঘোড়াকে মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাংস্কৃতিক মিছিলে ঘোড়া ব্যবহারের আহ্বান জানান।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক বিবৃতির সমালোচনা করে হেফাজত নেতা বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক’ বলাটা এক ধরনের উগ্র জাতিবাদী মনোভাব। এটি বিহারী বা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেও উপেক্ষা করে। তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সেক্যুলারিজমের নামে এদেশের মানুষকে সাংস্কৃতিকভাবে দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

বিষয় : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


পহেলা বৈশাখে 'শিরকমুক্ত' ও 'শালীন' শোভাযাত্রার আহ্বান হেফাজতের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আসন্ন বাংলা নববর্ষ বরণে পহেলা বৈশাখে শিরকমুক্ত ও শালীনভাবে সাংস্কৃতিক র‍্যালি করার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির নামে বিজাতীয় বা মূর্তিবাদী প্রথা চাপিয়ে দেওয়া ইসলামি আকিদার পরিপন্থী। সোমবার (৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এই আহ্বান জানান।

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটির যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ শব্দ বাদ দিয়ে শুধু ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই আয়োজন কতটুকু হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

হেফাজত নেতা স্পষ্ট করে বলেন, "একজন ঈমানদার মুসলমান বৈশাখকেন্দ্রিক হিন্দুয়ানি ‘মঙ্গল’ ধারণার মতো শিরক লালন করতে পারেন না। কারণ সব কল্যাণ কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রাণীর মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি ও প্রদর্শন ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই মূর্তিবাদী সংস্কৃতির পরিবর্তে তাওহিদের চেতনা অক্ষুণ্ণ রেখে মননশীল সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ মূলত আরবি হিজরি বর্ষপঞ্জির ওপর ভিত্তি করেই প্রবর্তিত হয়েছিল। মুসলিম শাসনামলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যে স্বর্ণযুগ ছিল, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিমরা তাদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ভুলে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসারী হওয়া দুঃখজনক। তিনি বাংলার বিজয়ী বখতিয়ার খিলজির ঘোড়াকে মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাংস্কৃতিক মিছিলে ঘোড়া ব্যবহারের আহ্বান জানান।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক বিবৃতির সমালোচনা করে হেফাজত নেতা বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘সার্বজনীন ঐক্যের প্রতীক’ বলাটা এক ধরনের উগ্র জাতিবাদী মনোভাব। এটি বিহারী বা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকেও উপেক্ষা করে। তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সেক্যুলারিজমের নামে এদেশের মানুষকে সাংস্কৃতিকভাবে দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ