তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এদির্নে প্রদেশের ঐতিহাসিক সেলিমিয়াহ মসজিদের সব কটি অংশ সংস্কার শেষে উন্মুক্ত করার পর মাত্র ৫ মাসে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) দর্শনার্থী ও মুসল্লি এটি পরিদর্শন করেছেন। তুর্কি-ইসলামী স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই নিদর্শনটির দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য ধারণকারী এই মসজিদটি দেখতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানুষের ঢল নামছে।
ঐতিহাসিক অটোমান (উসমানীয়) খেলাফতের অন্যতম রাজধানী ও বর্তমান তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর এদির্নের প্রতীক বলা হয় সেলিমিয়াহ মসজিদকে। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ফাউন্ডেশনস (ওয়াকফ) এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ব্যাপক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছরের নিপুণ কাজ শেষে গত রমজানের প্রথম তারাবিহ নামাজের মাধ্যমে মসজিদের সকল অংশ ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর গত ১২ জুন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধনের পর থেকে মসজিদটিতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এদির্নের মুফতি বুরহান চাকির আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, "এদির্নে শহরের নাম নিলেই সবার আগে সেলিমিয়াহ মসজিদের ছবি ভেসে ওঠে। সংস্কারের পর গত ৫ মাসে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই পবিত্র স্থান ও স্থাপত্যশৈলী দর্শন করেছেন।" উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মসজিদটিতে একটি বিশাল আকৃতির পবিত্র কুরআন শরিফ উপহার দেন, যা বর্তমানে সুলতানি মাকসুরার (রয়্যাল লজ) পাশের একটি বিশেষ জোনে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
ইউনেস্কো ঐতিহ্য ও স্থপতি সিনানের ‘অসাধারণ শিল্পকর্ম’
অটোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের নির্দেশে ১৫৬৮ সালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ইসলামের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থপতি মিয়ঁমার সিনান (Mimar Sinan)। একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত এই মসজিদটি পুরো শহর থেকে দৃশ্যমান। ১৫৭৫ সালে এটি ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও, এর কিছুকাল আগেই সুলতান দ্বিতীয় সেলিম ইন্তেকাল করেন। স্থপতি সিনান তাঁর আত্মজীবনীতে এই মসজিদটিকে তাঁর জীবনের অসাধারণ শিল্পকর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
২০১১ সালে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) সেলিমিয়াহ মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইউরোপের প্রবেশদ্বার ‘কাপিকুলে’ সীমান্ত দিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করতেই এই চোখ ধাঁধানো ইসলামী স্থাপত্য মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়।
অনন্য প্রকৌশল ও স্থাপত্যশৈলী
সেলিমিয়াহ মসজিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর বিশালাকৃতির গম্বুজ। সমসাময়িক অন্য সব মসজিদের মতো কোনো অর্ধ-গম্বুজের প্রটেকশন ছাড়াই একক কাঠামোর ওপর এই বিশাল গম্বুজটি দাঁড়িয়ে আছে, যা তৎকালীন প্রকৌশল ও স্থাপত্যবিদ্যাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। গম্বুজটির উচ্চতা ৪৩ মিটার এবং ব্যাস ৩২ মিটার। চার কোণায় থাকা সরু ও সুউচ্চ মিনারগুলো ইসলামী স্থাপত্যের নান্দনিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিষয় : তুরস্ক সেলিমিয়াহ মসজিদ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এদির্নে প্রদেশের ঐতিহাসিক সেলিমিয়াহ মসজিদের সব কটি অংশ সংস্কার শেষে উন্মুক্ত করার পর মাত্র ৫ মাসে প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) দর্শনার্থী ও মুসল্লি এটি পরিদর্শন করেছেন। তুর্কি-ইসলামী স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই নিদর্শনটির দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য ধারণকারী এই মসজিদটি দেখতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানুষের ঢল নামছে।
ঐতিহাসিক অটোমান (উসমানীয়) খেলাফতের অন্যতম রাজধানী ও বর্তমান তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর এদির্নের প্রতীক বলা হয় সেলিমিয়াহ মসজিদকে। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ফাউন্ডেশনস (ওয়াকফ) এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির ব্যাপক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সংস্কার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছরের নিপুণ কাজ শেষে গত রমজানের প্রথম তারাবিহ নামাজের মাধ্যমে মসজিদের সকল অংশ ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর গত ১২ জুন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধনের পর থেকে মসজিদটিতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এদির্নের মুফতি বুরহান চাকির আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, "এদির্নে শহরের নাম নিলেই সবার আগে সেলিমিয়াহ মসজিদের ছবি ভেসে ওঠে। সংস্কারের পর গত ৫ মাসে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এই পবিত্র স্থান ও স্থাপত্যশৈলী দর্শন করেছেন।" উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মসজিদটিতে একটি বিশাল আকৃতির পবিত্র কুরআন শরিফ উপহার দেন, যা বর্তমানে সুলতানি মাকসুরার (রয়্যাল লজ) পাশের একটি বিশেষ জোনে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
ইউনেস্কো ঐতিহ্য ও স্থপতি সিনানের ‘অসাধারণ শিল্পকর্ম’
অটোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগের সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের নির্দেশে ১৫৬৮ সালে এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন ইসলামের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থপতি মিয়ঁমার সিনান (Mimar Sinan)। একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত এই মসজিদটি পুরো শহর থেকে দৃশ্যমান। ১৫৭৫ সালে এটি ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও, এর কিছুকাল আগেই সুলতান দ্বিতীয় সেলিম ইন্তেকাল করেন। স্থপতি সিনান তাঁর আত্মজীবনীতে এই মসজিদটিকে তাঁর জীবনের অসাধারণ শিল্পকর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
২০১১ সালে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) সেলিমিয়াহ মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইউরোপের প্রবেশদ্বার ‘কাপিকুলে’ সীমান্ত দিয়ে তুরস্কে প্রবেশ করতেই এই চোখ ধাঁধানো ইসলামী স্থাপত্য মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়।
অনন্য প্রকৌশল ও স্থাপত্যশৈলী
সেলিমিয়াহ মসজিদের প্রধান আকর্ষণ হলো এর বিশালাকৃতির গম্বুজ। সমসাময়িক অন্য সব মসজিদের মতো কোনো অর্ধ-গম্বুজের প্রটেকশন ছাড়াই একক কাঠামোর ওপর এই বিশাল গম্বুজটি দাঁড়িয়ে আছে, যা তৎকালীন প্রকৌশল ও স্থাপত্যবিদ্যাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। গম্বুজটির উচ্চতা ৪৩ মিটার এবং ব্যাস ৩২ মিটার। চার কোণায় থাকা সরু ও সুউচ্চ মিনারগুলো ইসলামী স্থাপত্যের নান্দনিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন