শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

স্বচ্ছিক বিয়ে ও পারস্পরিক সম্মতি থাকা সত্ত্বেও উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বিক্ষোভে উত্তপ্ত মথুরা; অভিযুক্ত মুসলিম পরিবারকে সামাজিক বয়কটের ডাক হিন্দুত্ববাদীদের।

ভারতে আবারও ধর্মান্তরকরণ আইনের নামে মুসলিম যুবককে পুলিশি হয়রানি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে আবারও ধর্মান্তরকরণ আইনের নামে মুসলিম যুবককে পুলিশি হয়রানি

ভারতে উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় এক যুবতীকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোশতাক খান নামে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত 'ধর্মান্তরবিরোধী আইন'-এ মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুবতীটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার প্রলোভন ও ধর্মান্তরের অভিযোগ আনে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও সাধু-সন্ন্যাসীদের উসকানিমূলক বিক্ষোভ এবং হুমকির মুখে এলাকাটিতে এখন তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিতর্কিত ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার এবং মুসলিম যুবকদের লক্ষ্য করে হয়রানির আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। মথুরার গোবর্ধন এলাকায় এক যুবতী নিজ সম্মতিতে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোশতাক খান নামের এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এলাকায় চরম সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গোবর্ধন থানা এলাকার রাধাকুণ্ড পুলিশ ফাঁড়ির অধীনস্থ একটি গ্রামের যুবতী গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুখারাই গ্রামের বাসিন্দা মোশতাক খানের সঙ্গে চলে যান। পরবর্তীতে যুবতীর পরিবার অভিযোগ করে যে, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করে 'নিকাহ' করানো হয়েছে। যুবতীর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ উত্তর প্রদেশ ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন (Uttar Pradesh Prohibition of Unlawful Conversion of Religion Act)-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮৭ নম্বর ধারায় মোশতাক খানের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও হিন্দু চরমপন্থীরা এলাকায় একত্রিত হতে শুরু করে। শুক্রবার চিত্রগুপ্ত পীঠাধীশ্বর স্বামী সচ্চিদানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে বাসন্তী গ্রামের বাসিন্দারা বাসযোগে মোশতাক খানের গ্রাম মুখারাইতে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চরমপন্থী ওই গোষ্ঠী মোশতাক খানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে গোবর্ধন সার্কেল অফিসার অনিল কুমার সিং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে এলাকায় মোতায়েন হন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে বৃহস্পতিবারও যুবতীর স্বজন ও গ্রামবাসী মুখারাই গ্রামে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি থানার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উগ্র চরমপন্থীদের প্রভাবে এক গ্রাম্য বৈঠকে মোশতাক খান এবং তার পরিবারকে সামাজিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে হুমকি দেওয়া হয় যে, মোশতাকের পরিবারকে কেউ কোনো প্রকার সাহায্য করলে তাকেও সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে করা বিয়েকে প্রায়শই তথাকথিত 'লাভ জিহাদ' বা বেআইনি ধর্মান্তরের তকমা দিয়ে মুসলিমদের হেনস্তা ও মূলধারার গণমাধ্যমের সাহায্যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ মোশতাক খান ও ওই যুবতীর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে আবারও ধর্মান্তরকরণ আইনের নামে মুসলিম যুবককে পুলিশি হয়রানি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে উত্তর প্রদেশের মথুরা জেলায় এক যুবতীকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোশতাক খান নামে এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে বিতর্কিত 'ধর্মান্তরবিরোধী আইন'-এ মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুবতীটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার প্রলোভন ও ধর্মান্তরের অভিযোগ আনে। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও সাধু-সন্ন্যাসীদের উসকানিমূলক বিক্ষোভ এবং হুমকির মুখে এলাকাটিতে এখন তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিতর্কিত ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার এবং মুসলিম যুবকদের লক্ষ্য করে হয়রানির আরও একটি ঘটনা সামনে এসেছে। মথুরার গোবর্ধন এলাকায় এক যুবতী নিজ সম্মতিতে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোশতাক খান নামের এক মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এলাকায় চরম সাম্প্রদায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গোবর্ধন থানা এলাকার রাধাকুণ্ড পুলিশ ফাঁড়ির অধীনস্থ একটি গ্রামের যুবতী গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুখারাই গ্রামের বাসিন্দা মোশতাক খানের সঙ্গে চলে যান। পরবর্তীতে যুবতীর পরিবার অভিযোগ করে যে, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করে 'নিকাহ' করানো হয়েছে। যুবতীর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ উত্তর প্রদেশ ধর্মান্তর নিষিদ্ধকরণ আইন (Uttar Pradesh Prohibition of Unlawful Conversion of Religion Act)-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮৭ নম্বর ধারায় মোশতাক খানের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও হিন্দু চরমপন্থীরা এলাকায় একত্রিত হতে শুরু করে। শুক্রবার চিত্রগুপ্ত পীঠাধীশ্বর স্বামী সচ্চিদানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে বাসন্তী গ্রামের বাসিন্দারা বাসযোগে মোশতাক খানের গ্রাম মুখারাইতে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চরমপন্থী ওই গোষ্ঠী মোশতাক খানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে গোবর্ধন সার্কেল অফিসার অনিল কুমার সিং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে এলাকায় মোতায়েন হন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে বৃহস্পতিবারও যুবতীর স্বজন ও গ্রামবাসী মুখারাই গ্রামে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি থানার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উগ্র চরমপন্থীদের প্রভাবে এক গ্রাম্য বৈঠকে মোশতাক খান এবং তার পরিবারকে সামাজিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে হুমকি দেওয়া হয় যে, মোশতাকের পরিবারকে কেউ কোনো প্রকার সাহায্য করলে তাকেও সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে করা বিয়েকে প্রায়শই তথাকথিত 'লাভ জিহাদ' বা বেআইনি ধর্মান্তরের তকমা দিয়ে মুসলিমদের হেনস্তা ও মূলধারার গণমাধ্যমের সাহায্যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ মোশতাক খান ও ওই যুবতীর সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ