মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

 ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের ওপর নিপীড়নে অদ্ভুত মিল রয়েছে উল্লেখ করে ওয়োলাস, অপরাধীদের আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করতে বৈশ্বিক আইনগত পদক্ষেপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতের অবৈধ দখলে অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীর: মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করলো ওয়োলাস


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের অবৈধ দখলে অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীর: মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করলো ওয়োলাস

২৭ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের ফাতেহস্থ নেসলিশাহ সুলতান সংস্কৃতি কেন্দ্রে ‘ইয়ারইউজু আভুকাতলারিদেরনেগি’ বা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব লয়ার্স (WOLAS) জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্বের ৭৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। 'দীর্ঘতম অবরুদ্ধতা: ভারতীয় দখলদারিত্বের অধীনে জম্মু-কাশ্মীরে বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদ ও কাঠামোগত সহিংসতা' শীর্ষক এই রিপোর্টে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন, ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন এবং ইসরায়েলি প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের দমনের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মহলে সর্বজনীন বিচারব্যবস্থার অধীনে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে টানা সাড়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘন, মুসলিম নিধন ও ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের ওপর একটি বিস্তারিত ও কৌশলগত আইনি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনজীবিদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব লয়ার্স’ (WOLAS)।

সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কেবল একটি সাধারণ মানবাধিকার রিপোর্ট নয়; বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আদালতে ভারতীয় যুদ্ধাপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বজনীন বিচারিক ক্ষমতার (Universal Jurisdiction) অধীনে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ।

কাশ্মীরে ভারতের উপনিবেশবাদ ও ইসরায়েলি মিত্রশক্তি

ইস্তাম্বুলের ফাতেহস্থ ঐতিহাসিক নেসলিশাহ সুলতান সংস্কৃতি কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে WOLAS-এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এনেস কাফাদার বলেন, 'কাশ্মীর ভৌগোলিক দিক থেকে তুরস্কের দূরবর্তী মনে হলেও ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত নিকটবর্তী। চতুর্দশ শতাব্দীতে তুর্কি সুফি সাধক বুলবুল শাহের মাধ্যমে কাশ্মীরে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। তাছাড়া তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অবিভক্ত উপমহাদেশের মুসলিমদের অবদানের কথা আমরা কখনোই ভুলবো না।'

মুসলিমদের ওপর ভারতীয় নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের সাথে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখলের হুবহু মিল তুলে ধরে এনেস কাফাদার বলেন:

'কাশ্মীরের আকাশে আজ যেসব ড্রোন উড়ছে, সেগুলো ইসরায়েলে তৈরি ‘হেরন’ ড্রোন। রাস্তায় কাশ্মীরের সাধারণ ও নিরীহ মুসলিমদের দিকে যে অস্ত্র তাক করা হয়, তা ইসরায়েলি ‘টাভোর’ রাইফেল। এমনকি কাশ্মীরি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি চালাতে ইসরায়েলের তৈরি কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করছে ভারতীয় প্রশাসন।'

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং কাশ্মীরি জনগণের নিপীড়ন ও দুর্ভোগ একই সূত্রে গাঁথা। WOLAS আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এ অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে দীর্ঘমেয়াদী আইনি যুদ্ধ শুরু করেছে।

২০১৯ সালের পর কাশ্মীরকে ভারতীয়করণের ষড়যন্ত্র

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. হাসান বাসরি বুলবুল মূল প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ) বাতিল করার পর থেকে ঐ অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার রূপ বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া তীব্রতর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের প্রধান পর্যবেক্ষণ ও তথ্যসমূহ:

  • আইনি পরিবর্তন ও স্থানীয় অধিকার বিলোপ: ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জম্মু-কাশ্মীরে সরাসরি ৮৯০টি ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইন চালু করেছে এবং স্থানীয়দের সুরক্ষাকারী ২০৫টি আইন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করেছে। এছাড়া আরও ১৩০টি স্থানীয় আইন ভারতীয় স্বার্থে সংশোধন করা হয়েছে।
  • জনমিতি বা ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের চেষ্টা: লাখ লাখ অ-কাশ্মীরি হিন্দু ও ভারতীয় নাগরিকদের সেখানে জমি কেনার অধিকার ও স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদ (ডোমিসাইল) দিয়ে মুসলিমদের সংখ্যালঘু করার ষড়যন্ত্র চলছে।
  • জাতিসংঘের তদন্ত দলের দাবি: জম্মু-কাশ্মীরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে জাতিসংঘের অধীনে একটি স্বাধীন ‘তদন্ত কমিশন’ (Commission of Inquiry) গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানটির সমাপনী পর্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালিত হয়। WOLAS স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কাশ্মীরকে আর বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে দেওয়া হবে না এবং উগ্র উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে কাশ্মীরি মুসলিমদের ওপর পরিচালিত সহিংসতা আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপিত হবে।

বিষয় : মানবাধিকার তুরস্ক ভারত জম্মু কাশ্মীর সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ভারতের অবৈধ দখলে অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীর: মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করলো ওয়োলাস

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২৭ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের ফাতেহস্থ নেসলিশাহ সুলতান সংস্কৃতি কেন্দ্রে ‘ইয়ারইউজু আভুকাতলারিদেরনেগি’ বা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব লয়ার্স (WOLAS) জম্মু-কাশ্মীরে ভারতের দখলদারিত্বের ৭৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। 'দীর্ঘতম অবরুদ্ধতা: ভারতীয় দখলদারিত্বের অধীনে জম্মু-কাশ্মীরে বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদ ও কাঠামোগত সহিংসতা' শীর্ষক এই রিপোর্টে কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন, ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন এবং ইসরায়েলি প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের দমনের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মহলে সর্বজনীন বিচারব্যবস্থার অধীনে দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতের অবৈধ নিয়ন্ত্রণে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে টানা সাড়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘন, মুসলিম নিধন ও ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের ওপর একটি বিস্তারিত ও কৌশলগত আইনি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনজীবিদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব লয়ার্স’ (WOLAS)।

সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কেবল একটি সাধারণ মানবাধিকার রিপোর্ট নয়; বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আদালতে ভারতীয় যুদ্ধাপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বজনীন বিচারিক ক্ষমতার (Universal Jurisdiction) অধীনে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ।

কাশ্মীরে ভারতের উপনিবেশবাদ ও ইসরায়েলি মিত্রশক্তি

ইস্তাম্বুলের ফাতেহস্থ ঐতিহাসিক নেসলিশাহ সুলতান সংস্কৃতি কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে WOLAS-এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এনেস কাফাদার বলেন, 'কাশ্মীর ভৌগোলিক দিক থেকে তুরস্কের দূরবর্তী মনে হলেও ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত নিকটবর্তী। চতুর্দশ শতাব্দীতে তুর্কি সুফি সাধক বুলবুল শাহের মাধ্যমে কাশ্মীরে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। তাছাড়া তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অবিভক্ত উপমহাদেশের মুসলিমদের অবদানের কথা আমরা কখনোই ভুলবো না।'

মুসলিমদের ওপর ভারতীয় নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের সাথে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখলের হুবহু মিল তুলে ধরে এনেস কাফাদার বলেন:

'কাশ্মীরের আকাশে আজ যেসব ড্রোন উড়ছে, সেগুলো ইসরায়েলে তৈরি ‘হেরন’ ড্রোন। রাস্তায় কাশ্মীরের সাধারণ ও নিরীহ মুসলিমদের দিকে যে অস্ত্র তাক করা হয়, তা ইসরায়েলি ‘টাভোর’ রাইফেল। এমনকি কাশ্মীরি আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি চালাতে ইসরায়েলের তৈরি কুখ্যাত ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার ব্যবহার করছে ভারতীয় প্রশাসন।'

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং কাশ্মীরি জনগণের নিপীড়ন ও দুর্ভোগ একই সূত্রে গাঁথা। WOLAS আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এ অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে দীর্ঘমেয়াদী আইনি যুদ্ধ শুরু করেছে।

২০১৯ সালের পর কাশ্মীরকে ভারতীয়করণের ষড়যন্ত্র

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. হাসান বাসরি বুলবুল মূল প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ) বাতিল করার পর থেকে ঐ অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার রূপ বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া তীব্রতর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের প্রধান পর্যবেক্ষণ ও তথ্যসমূহ:

  • আইনি পরিবর্তন ও স্থানীয় অধিকার বিলোপ: ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জম্মু-কাশ্মীরে সরাসরি ৮৯০টি ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইন চালু করেছে এবং স্থানীয়দের সুরক্ষাকারী ২০৫টি আইন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করেছে। এছাড়া আরও ১৩০টি স্থানীয় আইন ভারতীয় স্বার্থে সংশোধন করা হয়েছে।
  • জনমিতি বা ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের চেষ্টা: লাখ লাখ অ-কাশ্মীরি হিন্দু ও ভারতীয় নাগরিকদের সেখানে জমি কেনার অধিকার ও স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদ (ডোমিসাইল) দিয়ে মুসলিমদের সংখ্যালঘু করার ষড়যন্ত্র চলছে।
  • জাতিসংঘের তদন্ত দলের দাবি: জম্মু-কাশ্মীরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে জাতিসংঘের অধীনে একটি স্বাধীন ‘তদন্ত কমিশন’ (Commission of Inquiry) গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানটির সমাপনী পর্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালিত হয়। WOLAS স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কাশ্মীরকে আর বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে দেওয়া হবে না এবং উগ্র উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে কাশ্মীরি মুসলিমদের ওপর পরিচালিত সহিংসতা আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপিত হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ