রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে মহাকাল মন্দির সংযোগ সড়ক ও হরিফটক সেতু প্রশস্তকরণের অজুহাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বেগমবাগে টানা সপ্তমবারের মতো চলল বুলডোজার; পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন।

সিংহস্থ ২০২৮ প্রকল্পের নামে উজ্জয়িনীতে ভেঙে ফেলা হলো একাধিক মুসলিম মালিকানাধীন স্থাপনা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

সিংহস্থ ২০২৮ প্রকল্পের নামে উজ্জয়িনীতে ভেঙে ফেলা হলো একাধিক মুসলিম মালিকানাধীন স্থাপনা

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বেগমবাগে আবার চলল প্রশাসনের বুলডোজার। হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ ২০২৮' (মহাকুম্ভ)-কে সামনে রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অজুহাতে গত শনিবার বেগমবাগ অঞ্চলের অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মহাকাল মন্দিরের সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণ এবং হরিফটক সেতুর পুনঃনির্মাণের দোহাই দিয়ে স্থানীয় উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইউডিএ), পৌরসভা এবং ভারী পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে জেসিবি ও পকলেইন মেশিন দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনগুলোকে 'অনুমোদনহীন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও, স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে এটি মূলধারার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নগর কেন্দ্র থেকে উচ্ছেদ ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি ধারাবাহিক অপপ্রয়াস।

অভিযানের পূর্বে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নোটিশ জারি করে। সংঘর্ষ কিংবা আইনি জটিলতা এড়াতে স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা বাধ্য হয়ে ক্ষয়ক্ষতির মুখে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন এবং গৃহ ও দোকানপাট ত্যাগ করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণের এই বাধ্যগত অবস্থানকে 'উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা' হিসেবে প্রচার করলেও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্ছেদের ভয়ে ঘরবাড়ি খালি করে দেওয়া আর প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া বা সমর্থন জানানো এক কথা নয়। চরম আতঙ্কের মুখে নিজেদের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই ভিটেমাটি ছেড়েছেন।

উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইউডিএ) সম্পত্তি কর্মকর্তা জীবন মো গি দাবি করেছেন, বেগমবাগ এলাকায় আবাসিক ব্যবহারের জন্য ইউডিএ পূর্বে ২৪০০ বর্গফুটের ৪৫টি প্লট ৩০ বছরের ইজারায় বরাদ্দ দিয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই ইজারা নবায়ন করা হয়নি এবং মূল ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে সেখানে ১০৬টিরও বেশি উপ-বিভাজন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পূর্বে আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় এই অভিযান বিলম্বিত হয়েছিল। সম্প্রতি আদালতের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ায় ইজারা বাতিল করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

তবে ইতিহাস ও অতীতের রেকর্ড বলছে, বেগমবাগ এলাকায় মুসলমানদের ওপর এই প্রশাসনিক নিপীড়ন কোনো একক ঘটনা নয়। গত তিন বছরে বেগমবাগে এটি ইউডিএ-এর সপ্তম বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান। এই তিন বছরে এলাকাটি থেকে ইতিমধ্যেই ৮৮টিরও বেশি পরিবার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ সংযোজন শনিবারের এই ১০টি স্থাপনা।

উজ্জয়িনী প্রশাসন সিংহস্থ ২০২৮ উপলক্ষ্যে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের কথা বারবার জোর দিয়ে বললেও, বেগমবাগের শত শত বাস্তুচ্যুত মুসলিম পরিবারের ভবিষ্যৎ, আবাসন নিরাপত্তা এবং তাদের জীবিকা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলোর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ, বিকল্প আবাসন বা পুনর্বাসনের কার্যকর কোনো রূপরেখা এখনও ঘোষণা করেনি স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এর ফলে উগ্র চরমপন্থী রাজনৈতিক চাপে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ভারতে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সিংহস্থ ২০২৮ প্রকল্পের নামে উজ্জয়িনীতে ভেঙে ফেলা হলো একাধিক মুসলিম মালিকানাধীন স্থাপনা

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বেগমবাগে আবার চলল প্রশাসনের বুলডোজার। হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ ২০২৮' (মহাকুম্ভ)-কে সামনে রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অজুহাতে গত শনিবার বেগমবাগ অঞ্চলের অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মহাকাল মন্দিরের সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণ এবং হরিফটক সেতুর পুনঃনির্মাণের দোহাই দিয়ে স্থানীয় উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইউডিএ), পৌরসভা এবং ভারী পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে জেসিবি ও পকলেইন মেশিন দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনগুলোকে 'অনুমোদনহীন ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও, স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে এটি মূলধারার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নগর কেন্দ্র থেকে উচ্ছেদ ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি ধারাবাহিক অপপ্রয়াস।

অভিযানের পূর্বে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নোটিশ জারি করে। সংঘর্ষ কিংবা আইনি জটিলতা এড়াতে স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা বাধ্য হয়ে ক্ষয়ক্ষতির মুখে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নেন এবং গৃহ ও দোকানপাট ত্যাগ করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণের এই বাধ্যগত অবস্থানকে 'উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা' হিসেবে প্রচার করলেও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্ছেদের ভয়ে ঘরবাড়ি খালি করে দেওয়া আর প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া বা সমর্থন জানানো এক কথা নয়। চরম আতঙ্কের মুখে নিজেদের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই ভিটেমাটি ছেড়েছেন।

উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইউডিএ) সম্পত্তি কর্মকর্তা জীবন মো গি দাবি করেছেন, বেগমবাগ এলাকায় আবাসিক ব্যবহারের জন্য ইউডিএ পূর্বে ২৪০০ বর্গফুটের ৪৫টি প্লট ৩০ বছরের ইজারায় বরাদ্দ দিয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই ইজারা নবায়ন করা হয়নি এবং মূল ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে সেখানে ১০৬টিরও বেশি উপ-বিভাজন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পূর্বে আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় এই অভিযান বিলম্বিত হয়েছিল। সম্প্রতি আদালতের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ায় ইজারা বাতিল করে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

তবে ইতিহাস ও অতীতের রেকর্ড বলছে, বেগমবাগ এলাকায় মুসলমানদের ওপর এই প্রশাসনিক নিপীড়ন কোনো একক ঘটনা নয়। গত তিন বছরে বেগমবাগে এটি ইউডিএ-এর সপ্তম বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান। এই তিন বছরে এলাকাটি থেকে ইতিমধ্যেই ৮৮টিরও বেশি পরিবার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার সর্বশেষ সংযোজন শনিবারের এই ১০টি স্থাপনা।

উজ্জয়িনী প্রশাসন সিংহস্থ ২০২৮ উপলক্ষ্যে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের কথা বারবার জোর দিয়ে বললেও, বেগমবাগের শত শত বাস্তুচ্যুত মুসলিম পরিবারের ভবিষ্যৎ, আবাসন নিরাপত্তা এবং তাদের জীবিকা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছে। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলোর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ, বিকল্প আবাসন বা পুনর্বাসনের কার্যকর কোনো রূপরেখা এখনও ঘোষণা করেনি স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এর ফলে উগ্র চরমপন্থী রাজনৈতিক চাপে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ভারতে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ