রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় বৈধ নথিপত্র দেখানোর পরও মহিষ পরিবহনকারী দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বজরং দলের সদস্যরা।

গরুর মাংস বিক্রির ভুয়া সন্দেহে দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে নির্যাতন করল চরমপন্থী 'বজরং দল'


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

গরুর মাংস বিক্রির ভুয়া সন্দেহে দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে নির্যাতন করল চরমপন্থী 'বজরং দল'

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার হারদুয়া গ্রামে গো-রক্ষার নামে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'বজরং দল'-এর সশস্ত্র সদস্যরা দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে রসিদ ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও দড়ি দিয়ে বেঁধে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে জখম করেছে। গত সোমবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় আবিদ কুরেশি ও হাসান কুরেশি নামের দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হলে তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুর মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হয়। গো-রক্ষা ও পিটিয়ে হত্যার (মব লিঞ্চিং) বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ওপর এই ধরনের উগ্র সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় বৈধভাবে মহিষ পরিবহন করার সময় দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে গবাদিপশু চুরি ও গরু জবাইয়ের ভুয়া অভিযোগে বেধড়ক মারধর ও টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাথে জড়িত একদল ব্যক্তি এই হামলা প্ররোচিত করেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিম অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে দামোহ জেলার হিন্দোরিয়া পুলিশ থানার অন্তর্গত হারদুয়া গ্রামে। আহত দুই ব্যবসায়ীর নাম আবিদ কুরেশি এবং হাসান কুরেশি।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে সাগরের একটি খামারে মহিষ নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হারদুয়া কিওলারির কাছে কয়েকজন লোক তাদের গাড়ি রোধ করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে দামোহ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাদের জবলপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী হাসান কুরেশি জানান, তিনি আবিদ কুরেশি এবং হুসেন খান নামের আরেকজন সহকর্মীর সাথে ভ্রমণ করছিলেন। হামলাকারীরা প্রথমে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোরে এবং গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। তারা গাড়ি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া করে ধরে ফেলে।

হাসান কুরেশি আরও অভিযোগ করেন, গ্রামের মানুষের সামনেই তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের মুখে তাদের জোরপূর্বক ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, তারা গবাদিপশু ক্রয় এবং পরিবহনের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছিলেন, কিন্তু চরমপন্থীরা কোনো কথাই শোনেনি এবং আক্রমণ অব্যাহত রাখে।

ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগে দীপক নেমা, ছুটকা এবং নিখিল চৌরাসিয়া সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীর নাম উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজিত সিং ভাদোরিয়া জানান, পুলিশ আহতদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবে এবং গবাদিপশু কেনা ও পরিবহনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ এসে পৌঁছানোয় চরমপন্থীদের হাত থেকে তারা প্রাণে বাঁচলেও, অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করছে।

আইনি ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা

মধ্যপ্রদেশ গবাদিপশু হত্যা নিষেধ আইনের অধীনে গরু বা তার বংশধরের হত্যা নিষিদ্ধ হলেও মহিষ ক্রয়, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। প্রাণীর পরিবহন আইন মেনে চললে এটি কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গো-রক্ষা ও মব লিঞ্চিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছিল। আদালত সমস্ত রাজ্যকে গবাদিপশু সংক্রান্ত সহিংসতা রোধে প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার আদেশ দেয়। তা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর এ ধরনের হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু মব

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


গরুর মাংস বিক্রির ভুয়া সন্দেহে দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে নির্যাতন করল চরমপন্থী 'বজরং দল'

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার হারদুয়া গ্রামে গো-রক্ষার নামে চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন 'বজরং দল'-এর সশস্ত্র সদস্যরা দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে রসিদ ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও দড়ি দিয়ে বেঁধে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে জখম করেছে। গত সোমবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় আবিদ কুরেশি ও হাসান কুরেশি নামের দুই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হলে তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুর মেডিকেল কলেজে পাঠাতে হয়। গো-রক্ষা ও পিটিয়ে হত্যার (মব লিঞ্চিং) বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ওপর এই ধরনের উগ্র সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় বৈধভাবে মহিষ পরিবহন করার সময় দুই মুসলিম ব্যবসায়ীকে গবাদিপশু চুরি ও গরু জবাইয়ের ভুয়া অভিযোগে বেধড়ক মারধর ও টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর সাথে জড়িত একদল ব্যক্তি এই হামলা প্ররোচিত করেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিম অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে দামোহ জেলার হিন্দোরিয়া পুলিশ থানার অন্তর্গত হারদুয়া গ্রামে। আহত দুই ব্যবসায়ীর নাম আবিদ কুরেশি এবং হাসান কুরেশি।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে সাগরের একটি খামারে মহিষ নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হারদুয়া কিওলারির কাছে কয়েকজন লোক তাদের গাড়ি রোধ করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে দামোহ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাদের জবলপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী হাসান কুরেশি জানান, তিনি আবিদ কুরেশি এবং হুসেন খান নামের আরেকজন সহকর্মীর সাথে ভ্রমণ করছিলেন। হামলাকারীরা প্রথমে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোরে এবং গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। তারা গাড়ি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া করে ধরে ফেলে।

হাসান কুরেশি আরও অভিযোগ করেন, গ্রামের মানুষের সামনেই তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের মুখে তাদের জোরপূর্বক ক্যামেরার সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, তারা গবাদিপশু ক্রয় এবং পরিবহনের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র দেখিয়েছিলেন, কিন্তু চরমপন্থীরা কোনো কথাই শোনেনি এবং আক্রমণ অব্যাহত রাখে।

ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগে দীপক নেমা, ছুটকা এবং নিখিল চৌরাসিয়া সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীর নাম উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজিত সিং ভাদোরিয়া জানান, পুলিশ আহতদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করবে এবং গবাদিপশু কেনা ও পরিবহনের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ এসে পৌঁছানোয় চরমপন্থীদের হাত থেকে তারা প্রাণে বাঁচলেও, অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করছে।

আইনি ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা

মধ্যপ্রদেশ গবাদিপশু হত্যা নিষেধ আইনের অধীনে গরু বা তার বংশধরের হত্যা নিষিদ্ধ হলেও মহিষ ক্রয়, বিক্রি এবং পরিবহন সম্পূর্ণ আইনি ও বৈধ। প্রাণীর পরিবহন আইন মেনে চললে এটি কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে মুসলিম ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গো-রক্ষা ও মব লিঞ্চিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছিল। আদালত সমস্ত রাজ্যকে গবাদিপশু সংক্রান্ত সহিংসতা রোধে প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার আদেশ দেয়। তা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর এ ধরনের হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ