মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

আফগানিস্তানে আইএস সম্পূর্ণ দমন এবং সব আস্তানা ধ্বংসের দাবি জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের; অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিল চীন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান কাবুলের



জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান কাবুলের

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরপরই তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির ইসলামিক আমিরাত সরকার। তালেবান সরকারের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সমগ্র আফগানিস্তানের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং কোনো সশস্ত্র বা অশুভ গোষ্ঠীকে এখান থেকে বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটনে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন।

আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অতিসাম্প্রতিক উদ্বেগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তান (আইইএ)। আফগান সরকারের স্পষ্ট অবস্থান—দেশের সার্বভৌম মাটি কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সীমান্তপার হুমকির কারণ হতে দেওয়া হবে না।

তোলোনিউজকে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে ইসলামিক আমিরাতের মূল মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, "এই বিষয়ে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ও সুসংহত। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে বিশ্বের কোনো দেশের ক্ষতি করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না। দেশে কোনো ধরনের স্বঘোষিত সশস্ত্র কিংবা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর স্থান বা তৎপরতা চালানোর সুযোগ নেই।"

নিরাপত্তা পরিষদে কয়েকটি দেশের উত্থাপিত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন, "ইসলামিক আমিরাত বর্তমানে সমগ্র দেশের ওপর একক ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কিছু দেশ যা উপস্থাপন করেছে তা সম্পূর্ণ ভুল ও বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করছি যে, আফগানিস্তানে কোনো অপশক্তিকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। আফগান মাটি থেকে আইএস (দায়েশ)-কে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিটি গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"

এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। নিরাপত্তা পরিষদে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধি সান লেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আফগান অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সান লেই বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আফগানিস্তানকে তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের জীবিকার মান উন্নয়নে সরাসরি সহায়তা করা। কারণ দারিদ্র্য ও চরম অর্থনৈতিক সংকট দূর হলেই কেবল সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধের প্রকৃত পরিবেশ তৈরি হবে। চীন বিশ্বাস করে, মধ্য এশীয় দেশগুলো এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা সংক্রান্ত সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।"

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন যে, আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি বিচারে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইসলামিক আমিরাতের সাথে তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবেই আইএস বা দায়েশের যেকোনো সীমান্তপার ষড়যন্ত্র স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব।"

অন্য এক বিশ্লেষক তূরিয়ালাই জাজাই মন্তব্য করেন, "আফগানিস্তান আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক সমন্বয়ে প্রস্তুত। তবে কিছু প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশ নিজস্ব রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই সহযোগিতার পথ রুদ্ধ করে রাখছে।"

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে এই আলোচনার কিছুদিন আগেই আফগান-পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন (ডুরান্ড লাইন) বেশ কয়েকটি চিহ্নিত আইএস বা দায়েশ ঘাঁটিতে সফল ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান কাবুলের

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরপরই তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির ইসলামিক আমিরাত সরকার। তালেবান সরকারের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সমগ্র আফগানিস্তানের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং কোনো সশস্ত্র বা অশুভ গোষ্ঠীকে এখান থেকে বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মূল উৎপাটনে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন।

আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অতিসাম্প্রতিক উদ্বেগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তান (আইইএ)। আফগান সরকারের স্পষ্ট অবস্থান—দেশের সার্বভৌম মাটি কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সীমান্তপার হুমকির কারণ হতে দেওয়া হবে না।

তোলোনিউজকে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে ইসলামিক আমিরাতের মূল মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, "এই বিষয়ে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত সুষ্পষ্ট ও সুসংহত। আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে বিশ্বের কোনো দেশের ক্ষতি করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না। দেশে কোনো ধরনের স্বঘোষিত সশস্ত্র কিংবা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর স্থান বা তৎপরতা চালানোর সুযোগ নেই।"

নিরাপত্তা পরিষদে কয়েকটি দেশের উত্থাপিত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন, "ইসলামিক আমিরাত বর্তমানে সমগ্র দেশের ওপর একক ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কিছু দেশ যা উপস্থাপন করেছে তা সম্পূর্ণ ভুল ও বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করছি যে, আফগানিস্তানে কোনো অপশক্তিকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। আফগান মাটি থেকে আইএস (দায়েশ)-কে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিটি গোপন আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"

এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। নিরাপত্তা পরিষদে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধি সান লেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আফগান অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সান লেই বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আফগানিস্তানকে তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের জীবিকার মান উন্নয়নে সরাসরি সহায়তা করা। কারণ দারিদ্র্য ও চরম অর্থনৈতিক সংকট দূর হলেই কেবল সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধের প্রকৃত পরিবেশ তৈরি হবে। চীন বিশ্বাস করে, মধ্য এশীয় দেশগুলো এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা সংক্রান্ত সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।"

সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন যে, আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি বিচারে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইসলামিক আমিরাতের সাথে তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবেই আইএস বা দায়েশের যেকোনো সীমান্তপার ষড়যন্ত্র স্থায়ীভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব।"

অন্য এক বিশ্লেষক তূরিয়ালাই জাজাই মন্তব্য করেন, "আফগানিস্তান আঞ্চলিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক সমন্বয়ে প্রস্তুত। তবে কিছু প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশ নিজস্ব রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই সহযোগিতার পথ রুদ্ধ করে রাখছে।"

উল্লেখ্য, জাতিসংঘে এই আলোচনার কিছুদিন আগেই আফগান-পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন (ডুরান্ড লাইন) বেশ কয়েকটি চিহ্নিত আইএস বা দায়েশ ঘাঁটিতে সফল ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ