মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

মিলাদুন্নবীর মিছিল থেকে দেওয়া বক্তব্যের জেরে উত্তরাখণ্ডের মুফতির বিরুদ্ধে মামলা; মুসলিম নেতৃত্বের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট।

উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা ও ঈদগাহ রক্ষার দাবিতে তোলায় মুফতির বিরুদ্ধে এফআইআরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা ও ঈদগাহ রক্ষার দাবিতে তোলায় মুফতির বিরুদ্ধে এফআইআরি

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপুরে পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মিছিল চলাকালীন মাদ্রাসা ও ঈদগাহ জমি নিয়ে কথা বলায় বিখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি মুজিবের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। রাজ্যের চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এ ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। তবে মিছিলে উপস্থিত কমিটির দায়িত্বশীলরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে।

ভারতে বিশ্বস্ত ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানো এবং মুসলিম সমাজের অধিকার রক্ষার আওয়াজ তোলার পরপরই উত্তরাখণ্ডে এক প্রখ্যাত আলেমকে আইনি হয়রানির নিশানা করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বুধবার রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকে আয়োজিত পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ থেকে খেড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুজিব সরকারের মাদ্রাসা বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় মুফতি মুজিব উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং মাদ্রাসা বন্ধের চক্রান্ত হলে তার পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় পৌরসভা কর্তৃক গত বছর বেআইনিভাবে দখল করা ৮ একর ঈদগাহের জমি মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানান।

উত্তরাখণ্ডের কট্টরপন্থী বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) খতিমায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট মুসলিমবিদ্বেষী সুর তুলে ধরেন। তিনি মুসলিমদের আইনানুগ দাবি ও অধিকার রক্ষার আওয়াজকে "দখলদারিত্বের মতাদর্শ" আখ্যা দেন। ধামি হুমকি দিয়ে বলেন, "হুমকি দিয়ে আপস করানোর দিন শেষ। মুফতিকে খুঁজে বের করে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, সরকার এ পর্যন্ত ১৩ হাজার একরের বেশি জমি তথাকথিত ‘দখলমুক্ত’ করেছে এবং এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, রুদ্রপুর পৌরসভার মেয়র বিকাশ শর্মা ঈদগাহের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তবে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের এই একপাক্ষিক ও দমনমূলক পদক্ষেপের বিপরীতে রুদ্রপুর মিলাদুন্নবী মিছিল পরিচালনা কমিটির পরিচালক ড. শাহিদ রেজা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উন্মোচন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সত্যতা ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার পরিবর্তে পুলিশ তড়িঘড়ি করে এফআইআর দায়ের করেছে। রুদ্রপুরের সার্কেল অফিসার বৈভব সাইনি জানান, জেলা পুলিশ সুপার (এসএসপি)-এর নির্দেশে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে এই মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে মাদ্রাসা উচ্ছেদ, ধর্মীয় ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং এআই-চালিত ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে মুসলিম নেতৃত্বকে টার্গেট করার যে চরমপন্থী কৌশল দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই ধারাবাহিক অংশ।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা ও ঈদগাহ রক্ষার দাবিতে তোলায় মুফতির বিরুদ্ধে এফআইআরি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপুরে পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর মিছিল চলাকালীন মাদ্রাসা ও ঈদগাহ জমি নিয়ে কথা বলায় বিখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতি মুজিবের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। রাজ্যের চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এ ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়েছেন। তবে মিছিলে উপস্থিত কমিটির দায়িত্বশীলরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে।

ভারতে বিশ্বস্ত ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানো এবং মুসলিম সমাজের অধিকার রক্ষার আওয়াজ তোলার পরপরই উত্তরাখণ্ডে এক প্রখ্যাত আলেমকে আইনি হয়রানির নিশানা করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বুধবার রুদ্রপুরের ত্রিশূল চকে আয়োজিত পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ থেকে খেড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মুজিব সরকারের মাদ্রাসা বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল করা হয়, যেখানে দাবি করা হয় মুফতি মুজিব উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং মাদ্রাসা বন্ধের চক্রান্ত হলে তার পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় পৌরসভা কর্তৃক গত বছর বেআইনিভাবে দখল করা ৮ একর ঈদগাহের জমি মুসলিমদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানান।

উত্তরাখণ্ডের কট্টরপন্থী বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) খতিমায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট মুসলিমবিদ্বেষী সুর তুলে ধরেন। তিনি মুসলিমদের আইনানুগ দাবি ও অধিকার রক্ষার আওয়াজকে "দখলদারিত্বের মতাদর্শ" আখ্যা দেন। ধামি হুমকি দিয়ে বলেন, "হুমকি দিয়ে আপস করানোর দিন শেষ। মুফতিকে খুঁজে বের করে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, সরকার এ পর্যন্ত ১৩ হাজার একরের বেশি জমি তথাকথিত ‘দখলমুক্ত’ করেছে এবং এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, রুদ্রপুর পৌরসভার মেয়র বিকাশ শর্মা ঈদগাহের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তবে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের এই একপাক্ষিক ও দমনমূলক পদক্ষেপের বিপরীতে রুদ্রপুর মিলাদুন্নবী মিছিল পরিচালনা কমিটির পরিচালক ড. শাহিদ রেজা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উন্মোচন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সত্যতা ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার পরিবর্তে পুলিশ তড়িঘড়ি করে এফআইআর দায়ের করেছে। রুদ্রপুরের সার্কেল অফিসার বৈভব সাইনি জানান, জেলা পুলিশ সুপার (এসএসপি)-এর নির্দেশে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে এই মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে মাদ্রাসা উচ্ছেদ, ধর্মীয় ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং এআই-চালিত ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে মুসলিম নেতৃত্বকে টার্গেট করার যে চরমপন্থী কৌশল দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই ধারাবাহিক অংশ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ