জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান ডেনিস বেচিরোভিচ। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজায় বিশ্বনেতাদের এই নিষ্ক্রিয়তা ১৯৯০-এর দশকে বসনিয়ায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গণহত্যার স্মৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক বিচার বিভাগীয় সর্বোচ্চ সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত বসনিয়ার সেই অতীত ট্র্যাজেডির মতো বর্তমান অন্যায়ের বিরুদ্ধেও বিশ্ব সম্প্রদায়কে নীরব না থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে ডেনিস বেচিরোভিচ বলেন, চরম অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে বিশ্বের সার্বভৌম দেশগুলোর নিষ্ক্রিয় থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী পপুলিজম, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় সাধারণ মানুষের চরম দুর্দশা, উপসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সংঘাত এবং সুদানের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মানবজাতিকে ভয় ও অনিশ্চয়তার এক গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে।
বসনিয়ার ইতিহাস তুলে ধরে বেচিরোভিচ স্মারক বক্তৃতায় মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সার্বীয় বাহিনীর নজিরবিহীন আগ্রাসন, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বোসনিয়াক মুসলিমদের ওপর সংঘটিত নির্মম গণহত্যার শিকার হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ বিচার আদালতও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে বসনিয়ার মাটিতে গণহত্যা ঘটেছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের প্রাতিষ্ঠানিক বন্দনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ঐতিহাসিক জবাবদিহিতার বিষয়টি উল্লেখ করে বেচিরোভিচ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী রাটকো ম্লাদিচের প্রসঙ্গ তোলেন। "বসনিয়ার কসাই" হিসেবে পরিচিত ম্লাদিচকে যেকোনো ধরনের বীর হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও মহিমান্বিত করার চেষ্টা সভ্যতার পরিপন্থী ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাবেক ইউগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ম্লাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ বছরের আগস্টে দ্য হেগের কারাগারে তার মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও বসনিয়ার একাংশে এবং সার্বিয়ায় তাকে নায়ক বানানোর যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বেচিরোভিচ। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নীরবতা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের সহযোগীতে পরিণত করে।
মতামত