ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির শালিমার বাগ এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এক বিতর্কিত অভিযানের মাধ্যমে একটি মসজিদ আংশিক ধ্বংস এবং সংলগ্ন বেশ কয়েকটি মুসলিম পরিবারকে গৃহহীন করা হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি) এটিকে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প হিসেবে দাবি করলেও, আইনি সুযোগ না দিয়ে রাতের অন্ধকারে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির শালিমার বাগ এলাকায় গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি)। ভারী পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে এই অভিযানে একটি প্রাচীন মসজিদের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয় এবং রাস্তার দুপাশে অবস্থিত স্থানীয়দের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এমসিডি কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি প্রধান হাসপাতালের সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগেও একাধিক দফায় এলাকাটিতে কথিত বেআইনি স্থাপনা সরানোর অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতের অভিযানে সড়কের দুপাশে অবশিষ্ট থাকা বাকি অংশ, যার মধ্যে এই ধর্মীয় উপাসনালয় ও সাধারণ মানুষের আবাসিক ঘরবাড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ বা অঘটন এড়াতে পুরো এলাকাটি ভারী পুলিশ বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে জেসিবি (JCB) বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের কার্যপদ্ধতি ও সময় নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ বা সময় না দিয়েই গভীর রাতে ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
নিখিল ভারত মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (AIMIM) দিল্লি প্রদেশের সভাপতি শোয়েব জামাই এই অভিযানের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধর্মীয় স্থাপনাটির আইনি বৈধতার বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতকে তোয়াক্কা না করে গভীর রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালানো উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপেরই অংশ।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উপাসনালয় এবং বাড়িঘর লক্ষ্য করে এই 'বুলডোজার নীতি' প্রয়োগের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছেও চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মতামত