মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরাখণ্ডের বিজেপি পরিচালিত সরকারের অভিযান; দেরাদুন ও হালদুয়ানিতে নতুন করে পাঁচটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ মানবাধিকার কর্মীদের।

ভারতে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাত: সিলগালা ২০ মাদ্রাসা, সংকটে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাত: সিলগালা ২০ মাদ্রাসা, সংকটে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জোরদার করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার। সম্প্রতি দেরাদুন ও নৈনিতাল জেলার হালদুয়ানিতে অভিযান চালিয়ে নতুন করে একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসা সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে মোট বন্ধ হওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা দাঁড়াল ২০টিতে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং পরিকল্পিতভাবে মুসলিম শিক্ষার পথ রুদ্ধ করার অভিযোগে এ ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সংখ্যালঘু দমন পীড়নের ধারাবাহিকতায় উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। তথাকথিত ‘স্বীকৃতি ও নিয়মকানুন’ লঙ্ঘনের অজুহাতে রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।

রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুসূদন ঢাকেতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৭টি মাদ্রাসা সরাসরি সিলগালা করা হয়েছে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের লিখিত মুচলেকা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে রাজধানী দেরাদুনের আজাদ কলোনিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া’ সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। একই সাথে মাজরার আজাদ কলোনির ‘মাদ্রাসা দার-এ-আরকম’ এবং ‘মাদ্রাসা দারুল উলুম রাহিমিয়া’-এর পরিচালনা পর্ষদকে চাপ প্রয়োগ করে লিখিত অঙ্গীকারনামা আদায় করা হয় এবং সেগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান এখানেই থেমে থাকেনি; নৈনিতাল জেলার হালদুয়ানি শহরের শনি বাজার রোডের ‘মাদ্রাসা জামিয়া নূরিয়া বারকাতে আমিনা’ এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদ্রাসাও সিলগালা করা হয়েছে। হালদুয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ. বি. বাজপেয়ী জানান, আইনি ডকুমেন্টস প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার দোহাই দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দাবি করছে, তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম অধিকার কর্মীদের মতে, আধুনিকায়নের নাম করে রাজকীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে মুসলিম সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই রাজ্য বিধানসভায় ‘মাদ্রাসা বোর্ড’ বিলুপ্ত করে একটি কেন্দ্রীকৃত শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে মাদ্রাসা পরিচালনা বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মূল উদ্দেশ্য মূলত মাদ্রাসার ধর্মীয় পরিচয় বিলুপ্ত করা।

প্রশাসনের এই আগ্রাসী অভিযানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার দরিদ্র মুসলিম শিশুর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের এই নীতি মূলত ভারতে মুসলিমদের মৌলিক শিক্ষাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাত: সিলগালা ২০ মাদ্রাসা, সংকটে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জোরদার করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার। সম্প্রতি দেরাদুন ও নৈনিতাল জেলার হালদুয়ানিতে অভিযান চালিয়ে নতুন করে একাধিক অননুমোদিত মাদ্রাসা সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে মোট বন্ধ হওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা দাঁড়াল ২০টিতে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা অধিকার ক্ষুণ্ণ করা এবং পরিকল্পিতভাবে মুসলিম শিক্ষার পথ রুদ্ধ করার অভিযোগে এ ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সংখ্যালঘু দমন পীড়নের ধারাবাহিকতায় উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। তথাকথিত ‘স্বীকৃতি ও নিয়মকানুন’ লঙ্ঘনের অজুহাতে রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।

রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুসূদন ঢাকেতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৭টি মাদ্রাসা সরাসরি সিলগালা করা হয়েছে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের লিখিত মুচলেকা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে রাজধানী দেরাদুনের আজাদ কলোনিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া’ সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। একই সাথে মাজরার আজাদ কলোনির ‘মাদ্রাসা দার-এ-আরকম’ এবং ‘মাদ্রাসা দারুল উলুম রাহিমিয়া’-এর পরিচালনা পর্ষদকে চাপ প্রয়োগ করে লিখিত অঙ্গীকারনামা আদায় করা হয় এবং সেগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান এখানেই থেমে থাকেনি; নৈনিতাল জেলার হালদুয়ানি শহরের শনি বাজার রোডের ‘মাদ্রাসা জামিয়া নূরিয়া বারকাতে আমিনা’ এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদ্রাসাও সিলগালা করা হয়েছে। হালদুয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ. বি. বাজপেয়ী জানান, আইনি ডকুমেন্টস প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার দোহাই দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দাবি করছে, তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম অধিকার কর্মীদের মতে, আধুনিকায়নের নাম করে রাজকীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে মুসলিম সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই রাজ্য বিধানসভায় ‘মাদ্রাসা বোর্ড’ বিলুপ্ত করে একটি কেন্দ্রীকৃত শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে মাদ্রাসা পরিচালনা বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মূল উদ্দেশ্য মূলত মাদ্রাসার ধর্মীয় পরিচয় বিলুপ্ত করা।

প্রশাসনের এই আগ্রাসী অভিযানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার দরিদ্র মুসলিম শিশুর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের এই নীতি মূলত ভারতে মুসলিমদের মৌলিক শিক্ষাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ