শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাতের অভিযোগ

উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গত জুলাই মাসে রাজ্য মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা করে দিয়েছে। সম্প্রতি দেরাদুন ও হালদওয়ানিতে নতুন করে পাঁচটি মাদরাসা বন্ধ করার পর সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর থেকে এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে উপজাতীয় মানসিকতা ও উগ্রবাদ বলে আখ্যা দিয়ে মাদরাসাগুলোতে তালা ঝুলানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক ধর্মীয় ও শিক্ষা অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে গণ্য করা হচ্ছে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিয়ন্ত্রিত রাজ্য সরকার ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর দমনপীড়ন তীব্র করেছে। রাজ্য মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার পর থেকে শুরু হওয়া অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি মাদরাসা চিরতরে বন্ধ অথবা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক সচিব ড. পরাগ মধুসূদন ধাকাতে সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে দেরাদুন ও হালদওয়ানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিবন্ধন শর্তাবলী মেনে না চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মোট ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সরাসরি সিলগালা করা হয়েছে এবং বাকি ৩টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে এর নেপথ্যের উগ্র সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টার শেয়ার করে বলেন, অবৈধ মাদরাসায় তালা ঝুলবে। একই সঙ্গে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে চরম ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান করেন।

ধামি তার বক্তব্যে দাবি করেন, মাদরাসাগুলোতে আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার অভাব রয়েছে এবং বর্তমান যুগে 'উপজাতীয় মানসিকতা বা উগ্রবাদ' দ্বারা চালিত শিক্ষার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, মাদরাসাগুলোর নাম এক, কিন্তু ভেতরে কাজ ও পড়াশোনা অন্য কিছু হয়। তারা বাইরের বিশ্বের কাছে একরকম ভাবমূর্তি তুলে ধরে, অথচ সেখানে বেনামে লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উত্তরাখণ্ড রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করলে সমস্ত মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি ঐতিহ্যবাহী ৫১০ বছরের প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্য ও শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে মৌলবাদী ও উপজাতীয় মানসিকতা বলে অভিহিত করে তিনি তথাকথিত 'দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে' তা চলতে না দেওয়ার হুংকার দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের অজুহাতে মূলত ভারতের সংবিধানিক কাঠামোর অধীনে সুরক্ষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষা অধিকার হরণ করছে। 'অবৈধ' তকমার আড়ালে ইসলামি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি মাদরাসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সাধারণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং রাজ্যজুড়ে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার গত জুলাই মাসে রাজ্য মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি মাদরাসা বন্ধ ও সিলগালা করে দিয়েছে। সম্প্রতি দেরাদুন ও হালদওয়ানিতে নতুন করে পাঁচটি মাদরাসা বন্ধ করার পর সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর থেকে এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রকাশ্যে উপজাতীয় মানসিকতা ও উগ্রবাদ বলে আখ্যা দিয়ে মাদরাসাগুলোতে তালা ঝুলানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক ধর্মীয় ও শিক্ষা অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে গণ্য করা হচ্ছে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিয়ন্ত্রিত রাজ্য সরকার ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর দমনপীড়ন তীব্র করেছে। রাজ্য মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার পর থেকে শুরু হওয়া অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০টি মাদরাসা চিরতরে বন্ধ অথবা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক সচিব ড. পরাগ মধুসূদন ধাকাতে সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে দেরাদুন ও হালদওয়ানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ড ও নিবন্ধন শর্তাবলী মেনে না চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মোট ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সরাসরি সিলগালা করা হয়েছে এবং বাকি ৩টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখার লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে এর নেপথ্যের উগ্র সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টার শেয়ার করে বলেন, অবৈধ মাদরাসায় তালা ঝুলবে। একই সঙ্গে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে চরম ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান করেন।

ধামি তার বক্তব্যে দাবি করেন, মাদরাসাগুলোতে আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার অভাব রয়েছে এবং বর্তমান যুগে 'উপজাতীয় মানসিকতা বা উগ্রবাদ' দ্বারা চালিত শিক্ষার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, মাদরাসাগুলোর নাম এক, কিন্তু ভেতরে কাজ ও পড়াশোনা অন্য কিছু হয়। তারা বাইরের বিশ্বের কাছে একরকম ভাবমূর্তি তুলে ধরে, অথচ সেখানে বেনামে লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উত্তরাখণ্ড রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করলে সমস্ত মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি ঐতিহ্যবাহী ৫১০ বছরের প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্য ও শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে মৌলবাদী ও উপজাতীয় মানসিকতা বলে অভিহিত করে তিনি তথাকথিত 'দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে' তা চলতে না দেওয়ার হুংকার দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের অজুহাতে মূলত ভারতের সংবিধানিক কাঠামোর অধীনে সুরক্ষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষা অধিকার হরণ করছে। 'অবৈধ' তকমার আড়ালে ইসলামি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি মাদরাসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সাধারণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং রাজ্যজুড়ে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ