ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জোরদার করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার।
ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সংখ্যালঘু দমন পীড়নের ধারাবাহিকতায় উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। তথাকথিত ‘স্বীকৃতি ও নিয়মকানুন’ লঙ্ঘনের অজুহাতে রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।
রাজ্য সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুসূদন ঢাকেতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৭টি মাদ্রাসা সরাসরি সিলগালা করা হয়েছে এবং ৩টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের লিখিত মুচলেকা নিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
সর্বশেষ অভিযানে রাজধানী দেরাদুনের আজাদ কলোনিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া’ সিলগালা করে দেয় প্রশাসন। একই সাথে মাজরার আজাদ কলোনির ‘মাদ্রাসা দার-এ-আরকম’ এবং ‘মাদ্রাসা দারুল উলুম রাহিমিয়া’-এর পরিচালনা পর্ষদকে চাপ প্রয়োগ করে লিখিত অঙ্গীকারনামা আদায় করা হয় এবং সেগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযান এখানেই থেমে থাকেনি; নৈনিতাল জেলার হালদুয়ানি শহরের শনি বাজার রোডের ‘মাদ্রাসা জামিয়া নূরিয়া বারকাতে আমিনা’ এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদ্রাসাও সিলগালা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দাবি করছে, তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও শৃঙ্খলার আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রশাসনের এই আগ্রাসী অভিযানে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার দরিদ্র মুসলিম শিশুর শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকারের এই নীতি মূলত ভারতে মুসলিমদের মৌলিক শিক্ষাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মতামত