তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (MİT)-এর প্রধান ইব্রাহিম কালিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পন্ন করেছেন। বুধবার তুর্কি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, এই সফরে তিনি আফগান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। প্রধানত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
আফগান শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক
সফরকালে তুর্কি গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন আফগানিস্তানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স (GDI)-এর প্রধান আব্দুল হক ওয়াসিকের সাথে এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার নতুন সমীকরণ
বৈঠকে তুর্কিয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা আদান-প্রদান আরও গভীর ও সমন্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান, মানব পাচার রোধ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিফলিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি
তুর্কি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আফগান নেতাদের সাথে কালিনের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ এবং এর আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব। মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বহিরাগত আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ভৌগোলিক ও কৌশলগত সংহতি বজায় রাখার বিষয়গুলোও বৈঠকে উঠে আসে। মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতা রোধে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে উভয় পক্ষ।
তুরস্ক দীর্ঘ দিন ধরেই আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও সার্বভৌমত্বের সমর্থনে ভূমিকা রেখে আসছে। আঙ্কারা ও কাবুলের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের সফর আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক কৌশলগত জোটকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মতামত