পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তানভীর হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নিরপেক্ষ তদন্তে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতের আদেশে মূল বাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুরির অপরাধে নাতি আটক হওয়ায় আলেম সমাজকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলেম-ওলামা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, পটুয়াখালীর এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে এবং মসজিদের সম্মানিত ইমাম, খতিব ও খাদেমদের চরম সামাজিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর মিথ্যা ধর্ষণ মামলার চক্রান্ত অবশেষে নস্যাৎ হয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির এবং আহমাদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা (মামলা নং ৮৬৪/২০২৫) দায়ের করেন স্থানীয় এক নারী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি মসজিদে আরবি পড়তে গেলে তাকে মক্তবের পাশের স্টোররুমে নিয়ে অভিযুক্তরা পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
তবে ঘটনার অন্তরালে সত্য ছিল ভিন্ন। মডেল মসজিদে প্রায়ই বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ওই নারীর নাতিকে চুরির সময় হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতের বয়স কম হওয়ায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার জের ধরে ও আলেমদের ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ওই নারী সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট কাহিনী সাজিয়ে আদালতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা ঠুকে দেন।
আদালত মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই-এর তদন্ত দল সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে, ধর্ষণের দাবির পক্ষে ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই। বরং বাদীর নাতি চুরির দায়ে আটক হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আক্রোশ মেটাতে এই মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে রিপোর্ট দেন যে, আলেমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষোড়যন্ত্রমূলক।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত মিথ্যা মামলা দায়েরের অপরাধে বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পরোয়ানা পর্যালোচনা করে পুলিশ সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বাদীকে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইমাম মাওলানা তানভীর হোসেন জানান, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হয়েছি। একটি সম্মানিত ধর্মীয় পদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই ছিল চক্রান্তকারীদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্দোষ আলেম বা সাধারণ মানুষ এভাবে মিথ্যা মামলার শিকার না হন, তার জন্য আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
আলেম সমাজ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার প্রতিরোধে আইনি ও সামাজিক নজরদারি জোরদার করা আবশ্যক।
মতামত