সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

শিল্প পার্ক গড়ার অজুহাতে ধুবড়িতে উচ্ছেদ করা হয়েছে মসজিদ ও ঘরবাড়ি; খোলা আকাশের নিচে স্থান পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র হাহাকার ও ক্ষোভ

আসামে উচ্ছেদ করা হলো ৫৫০টি মুসলিম পরিবার, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি মানুষ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

আসামে উচ্ছেদ করা হলো ৫৫০টি মুসলিম পরিবার, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি মানুষ

ভারতের আসাম রাজ্যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে মুসলিমবিরোধী উচ্ছেদ অভিযান নতুন করে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। রবিবার (২ নভেম্বর) ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জের নবম ব্লকে একটি বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫০টি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি এবং ধর্মীয় উপাসনালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক অভিযানে অন্তত ৪,০০০ মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ধুবড়ি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় চালানো এই পদক্ষেপে প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির বসতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে পরিচালিত মুসলিম উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতায় আসামের ধুবড়ি জেলায় দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর-আলমগঞ্জ এলাকায় মূলত বাঙালি মুসলিম পরিবারগুলোর বসবাস। গত রবিবার সকালে ৫০টিরও বেশি বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বসতি মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ধ্বংস করার ঠিক আগের মুহূর্তে মুসলিম নারীরা কাঁদছেন এবং আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছেন। ধর্মীয় স্থান ও ঐতিহাসিক কবরস্থান ধ্বংস করার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কামেল পীর শাহাবুদ্দিন আউলিয়া মাজারের সামনে একত্রিত হয়ে দোয়া করেন এবং প্রশাসনের এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের "জবরদখলকারী" হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে যে, তারা ১৫ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসনের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ জানান, শিল্প পার্ক নির্মাণের জন্য রাজ্য শিল্প বিভাগের হাতে এই জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের মূল লক্ষ্যের ৮০০ বিঘার মধ্যে ১৫০ বিঘা জমি আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আপাতত স্পর্শ করা হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের অনেকের অন্যত্র জমি রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে সরকারি রাজস্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজ একে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী এজেন্ডার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লেখেন, "উন্নয়ন মানুষের মর্যাদার বিনিময়ে হতে পারে না। এই পরিবারগুলো কোথায় যাবে? তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে?" অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "বিজেপি সরকার রাজনৈতিক ফায়দা ও মুসলিমদের কোণঠাসা করতেই এই বুলডোজার রাজনীতি চালু রেখেছে।"

ঘরবাড়ি ও মসজিদ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ৪ হাজারেরও বেশি অসহায় মুসলিম। তাদের পুনর্বাসন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত আসাম সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


আসামে উচ্ছেদ করা হলো ৫৫০টি মুসলিম পরিবার, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের আসাম রাজ্যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে মুসলিমবিরোধী উচ্ছেদ অভিযান নতুন করে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। রবিবার (২ নভেম্বর) ধুবড়ি জেলার আলমগঞ্জের নবম ব্লকে একটি বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৫০টি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি এবং ধর্মীয় উপাসনালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক অভিযানে অন্তত ৪,০০০ মানুষ সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ধুবড়ি জেলা প্রশাসনের সহায়তায় চালানো এই পদক্ষেপে প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির বসতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে পরিচালিত মুসলিম উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতায় আসামের ধুবড়ি জেলায় দেখা গেল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর-আলমগঞ্জ এলাকায় মূলত বাঙালি মুসলিম পরিবারগুলোর বসবাস। গত রবিবার সকালে ৫০টিরও বেশি বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বসতি মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ধ্বংস করার ঠিক আগের মুহূর্তে মুসলিম নারীরা কাঁদছেন এবং আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছেন। ধর্মীয় স্থান ও ঐতিহাসিক কবরস্থান ধ্বংস করার ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কামেল পীর শাহাবুদ্দিন আউলিয়া মাজারের সামনে একত্রিত হয়ে দোয়া করেন এবং প্রশাসনের এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের "জবরদখলকারী" হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে যে, তারা ১৫ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসনের প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ জানান, শিল্প পার্ক নির্মাণের জন্য রাজ্য শিল্প বিভাগের হাতে এই জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের মূল লক্ষ্যের ৮০০ বিঘার মধ্যে ১৫০ বিঘা জমি আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আপাতত স্পর্শ করা হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের অনেকের অন্যত্র জমি রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে সরকারি রাজস্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজ একে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী এজেন্ডার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লেখেন, "উন্নয়ন মানুষের মর্যাদার বিনিময়ে হতে পারে না। এই পরিবারগুলো কোথায় যাবে? তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে?" অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "বিজেপি সরকার রাজনৈতিক ফায়দা ও মুসলিমদের কোণঠাসা করতেই এই বুলডোজার রাজনীতি চালু রেখেছে।"

ঘরবাড়ি ও মসজিদ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ৪ হাজারেরও বেশি অসহায় মুসলিম। তাদের পুনর্বাসন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ